Skip to content
Orbit Sports

বিগব্যাশ আর কেবল অস্ট্রেলিয়ার নয়

আইপিএলের দেশে বিগ ব্যাশের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন, উদ্বোধনী ম্যাচ চেন্নাইয়ে

Arif Hossain

Chief Football Writer

International Cricket· 7 min read
বিগ ব্যাশ চলে আসছে ভারতে

অস্ট্রেলিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে বিগ ব্যাশকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান টি-টোয়েন্টি লিগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সেই লক্ষ্যে এবার বড় পদক্ষেপ, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে ভারতের চেন্নাইয়ে। আইপিএলের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাই সুপার কিংসের ঘরের মাঠ চিপকে ১২ ডিসেম্বর মুখোমুখি হবে মেলবোর্ন রেনেগেডস ও পার্থ স্কর্চার্স। টিকিট বিক্রিতে প্রাথমিক সাড়া আশাব্যঞ্জক। তবে চেন্নাইয়ের আবহাওয়া, বিশেষ করে বৃষ্টির শঙ্কা, আয়োজনের সামনে তৈরি করছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশ্বায়ন এখন আর কেবল আলোচনার বিষয় নয়, বাস্তবতারও অংশ। বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিজেদের বাজারের বাইরে দর্শক, খেলোয়াড় ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। সেই প্রতিযোগিতায় এবার নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায় অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল)। আর সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রে ভারত, ক্রিকেটের অন্যতম বৃহৎ বাজার।

বিগ ব্যাশের ইতিহাসে এবারই প্রথম নয় শুধু, বরং অস্ট্রেলিয়ার বাইরে নিজেদের ব্র্যান্ডকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে চেন্নাইয়ে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনকে। আগামী ১২ ডিসেম্বর চিপক স্টেডিয়ামে মেলবোর্ন রেনেগেডস ও পার্থ স্কর্চার্সের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের বিবিএল মৌসুম। প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটিতে গ্যালারি পূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

বিগ ব্যাশ লিগের প্রধান অ্যালিস্টার ডবসনের কথায়, এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল একটি ম্যাচ অন্য দেশে আয়োজন করা নয়; বরং বিগ ব্যাশকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক লিগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। শুক্রবার এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, টিকিট বিক্রিতে যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তা আয়োজকদের আশাবাদী করে তুলেছে।

ডবসনের ভাষায়, ‘এ মৌসুমে বিগ ব্যাশের পরিচিতি আরও বাড়ানোর ব্যাপারে আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশ্বায়ন এবং আইপিএল ও বিগ ব্যাশের মতো বড় লিগগুলোর আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার গুরুত্ব এখন সবাই দেখতে পাচ্ছেন। শুধু নিজেদের দেশে নয়, বিশ্বমঞ্চেও আমাদের কার্যকরভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকেরা বিগ ব্যাশ দেখুন। একই সঙ্গে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়েরা যেন আমাদের প্রতিযোগিতার অংশ হতে চান। সেটা পুরুষদের লিগ হোক কিংবা নারীদের।’

‘শুধু অস্ট্রেলিয়ার লিগ হয়ে থাকার দিন শেষ’

বিগ ব্যাশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ডবসনের বক্তব্যে স্পষ্ট, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এখন আর এই প্রতিযোগিতাকে কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ বিনোদন বা বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখতে চায় না। আন্তর্জাতিক দর্শক তৈরি করা, বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের আকৃষ্ট করা এবং নিজেদের ব্র্যান্ডকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

ডবসন বলেন, ‘বিগ ব্যাশের শুধু অস্ট্রেলিয়ার একটি লিগ হয়ে নিজেদের দেশে বেড়ে ওঠার দিন শেষ। বিগ ব্যাশ এখন একটি বৈশ্বিক লিগ, যার দর্শক ও প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে।’

এই বক্তব্যের পেছনে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বর্তমান বাস্তবতাও রয়েছে। ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতা। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক, দর্শকসংখ্যা, সম্প্রচারস্বত্ব ও বাণিজ্যিক মূল্য—সব ক্ষেত্রেই আইপিএল অন্য লিগগুলোর জন্য বড় মানদণ্ড তৈরি করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ক্যারিবীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তার ঘটেছে।

বিগ ব্যাশও এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে চায়। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটের শক্তিশালী কাঠামো, আন্তর্জাতিক তারকাদের অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘদিনের দর্শকভিত্তি তাদের বড় সম্পদ। কিন্তু আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বাজারে নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে হলে অস্ট্রেলিয়ার বাইরের দর্শকদের কাছেও পৌঁছানো প্রয়োজন। চেন্নাইয়ে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

প্রথম আধঘণ্টায় বিক্রি দুই হাজার টিকিট

চেন্নাইয়ে বিগ ব্যাশের ম্যাচ আয়োজনের ঘোষণার পর টিকিট বিক্রিতে পাওয়া সাড়া আয়োজকদের উৎসাহ জুগিয়েছে। ডবসন জানিয়েছেন, গত সপ্তাহান্তে টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম ৩০ মিনিটেই প্রায় দুই হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। চাহিদা দেখে পরে আরও টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

ডবসনের দাবি, এই সাড়া বিগ ব্যাশকে বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতার তুলনায় বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে টিকিট বিক্রির প্রাথমিক পরিসংখ্যানকে পুরো মৌসুমের বাণিজ্যিক সাফল্যের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শেষ পর্যন্ত মাঠের দর্শকসংখ্যা, সম্প্রচার দর্শক, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতাটির পরিচিতি এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক অংশীদারত্বই উদ্যোগটির সাফল্য নির্ধারণ করবে।

চেন্নাইকে বেছে নেওয়ার পেছনে শহরটির ক্রিকেটীয় পরিচিতিও গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএলের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাই সুপার কিংসের ঘরের মাঠ এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম, যা চিপক নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘদিনের ক্রিকেট ঐতিহ্য, উন্মাদনাপূর্ণ দর্শক এবং টি-টোয়েন্টির প্রতি আগ্রহ—সব মিলিয়ে শহরটি বিগ ব্যাশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ানোর জন্য আকর্ষণীয় মঞ্চ।

ডবসনের মতে, ভারতের চেয়ে এই উদ্যোগের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভালো জায়গা খুব বেশি নেই। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা মনে করি, বিশ্বে সেরা কয়েকটি লিগের মধ্যে বিগ ব্যাশ অন্যতম। এই উদ্যোগের একটি লক্ষ্য হলো সেই অবস্থান আরও শক্ত করা। আর সেটি করার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে আবেগপ্রবণ টি-টোয়েন্টি ও ক্রিকেটপ্রেমীদের দেশে যাওয়ার চেয়ে ভালো জায়গা আর কী হতে পারে? আমরা জানি, ভারতে বিগ ব্যাশ আগে থেকেই বেশ জনপ্রিয়।’

অর্থাৎ, অস্ট্রেলিয়ার মাঠে যে প্রতিযোগিতা বছরের পর বছর দর্শক টেনেছে, সেটিকে এবার ভারতীয় দর্শকের কাছে আরও দৃশ্যমান করতে চায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

ক্রিকেটের বাইরে খেলাধুলার বিশ্বায়ন

বিগ ব্যাশের এই উদ্যোগকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বের বড় ক্রীড়া লিগগুলো নিজেদের পরিচিত বাজারের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শক তৈরির চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএল ও এনবিএ এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) মুখোমুখি হয়েছিল এনএফএলের লস অ্যাঞ্জেলেস র‍্যামস ও সান ফ্রান্সিসকো ৪৯এর্স। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেটিই ছিল এনএফএলের প্রথম ম্যাচ। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নিজেদের খেলা নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তারা নতুন দর্শক তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।

ক্রিকেটেও অবশ্য দেশের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের নজির রয়েছে। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ম্যাচ আয়োজন করেছিল, যার শেষ আয়োজন হয়েছিল ২০১৮ সালে। তবে কোনো বড় ক্রিকেট লিগের নিয়মিত প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে অন্য দেশে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিগ ব্যাশের এই উদ্যোগ আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারে।

এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, একটি ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে কতটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরি করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারে লিগের পরিচিতি বাড়াতে শুধু একটি জমকালো আয়োজন যথেষ্ট নয়। ধারাবাহিক সম্প্রচার, খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ, দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও প্রয়োজন।

চেন্নাইয়ে উদ্বোধনী ম্যাচ সফল হলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার বাইরের বাজারে আরও ম্যাচ আয়োজনের পথ খুলতে পারে। আবার আয়োজনটি প্রত্যাশিত সাড়া না পেলে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে।

বৃষ্টির শঙ্কা, নেই রিজার্ভ ডে

উদ্যোগটি নিয়ে আশাবাদ থাকলেও চেন্নাইয়ের আবহাওয়া আয়োজকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় শহরটিতে বর্ষা মৌসুমের শেষ ভাগের প্রভাব থাকতে পারে। চলতি মাসেই মৌসুমি বৃষ্টির পূর্বাভাস নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি হয়েছে। বিগ ব্যাশের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে চেন্নাইয়ে বৃষ্টিও হয়েছে।

তাই দর্শক ও বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি ম্যাচটি নির্বিঘ্নে আয়োজন করাও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টিতে খেলা বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের লিগকে তুলে ধরার এই আয়োজন প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে।

ডবসন জানিয়েছেন, উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য কোনো রিজার্ভ ডে রাখা হয়নি। তবে প্রয়োজনে ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে খেলার শর্তাবলি নিয়ে কাজ করছে লিগ কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, ‘আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে অনেক পরামর্শ নিয়েছি এবং আশা করছি, সবকিছু ভালো থাকবে। তবে আবহাওয়া তো আর আগে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আমরা কোনো রিজার্ভ ডে রাখছি না। প্রয়োজন হলে খেলার সময় বাড়ানো যায়, এমন কিছু শর্ত নিয়ে কাজ করছি।’

ডবসন আরও বলেন, ‘ম্যাচটি আয়োজন করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রিজার্ভ ডে ছাড়াও খেলা আয়োজনের কিছু উপায় রয়েছে বলে আমরা মনে করি। আইপিএলের মতো বিগ ব্যাশেও এক ম্যাচের পর দ্রুত পরবর্তী ম্যাচের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। তাই আলাদা দিনের ব্যবস্থা করার সুযোগ নেই। তবে ম্যাচটি নিশ্চিতভাবে আয়োজন করতে আমরা সবকিছু করছি।’

চেন্নাইয়ের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে। বিকেলের এই সূচি প্রয়োজনে খেলার সময় বাড়ানোর সুযোগ করে দেবে বলে মনে করছেন ডবসন। সাধারণত বিগ ব্যাশের ম্যাচে যতটা সময় বরাদ্দ থাকে, পরিস্থিতি অনুযায়ী তার চেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তবে সময় বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও অতিবৃষ্টির ক্ষেত্রে তা কতটা কার্যকর হবে, সেটি নির্ভর করবে সেদিনের আবহাওয়া ও মাঠের অবস্থার ওপর। ফলে বৃষ্টির ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানোর নিশ্চয়তা নেই।

ভবিষ্যতে ভারতে হতে পারে মেয়েদের বিগ ব্যাশও

পুরুষদের বিগ ব্যাশের ম্যাচ চেন্নাইয়ে আয়োজনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভারতে নারীদের বিগ ব্যাশ লিগের (ডব্লিউবিবিএল) ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ডবসন।

তবে আপাতত তাঁর কাছে অগ্রাধিকার এবারের পুরুষদের বিগ ব্যাশের উদ্বোধনী ম্যাচ সফলভাবে আয়োজন করা। তিনি বলেন, ‘সবার আগে এ বছরের বিগ ব্যাশ ম্যাচটি সফলভাবে আয়োজন করা আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা এখন সব প্রচেষ্টা সেদিকেই দিচ্ছি।’

নারীদের বিগ ব্যাশ সম্পর্কে ডবসনের মূল্যায়ন, এটি বিশ্বের সেরা নারী ক্রিকেট লিগ। ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এই প্রতিযোগিতার ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে আগ্রহী ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

তিনি বলেন, ‘আমরা ডব্লিউবিবিএলকে বিশ্বাস করি। আমাদের দৃষ্টিতে, এটি বিশ্বের সেরা নারী ক্রিকেট লিগ। তাই ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ডব্লিউবিবিএলের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনার জন্য আমরা উন্মুক্ত।’

তবে পুরুষ ও নারী দলের একই দিনে দুটি ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে সূচির একটি সমস্যা রয়েছে। ডব্লিউবিবিএল ও পুরুষদের বিগ ব্যাশের মৌসুমের সময়সূচি এমনভাবে মেলে না যে সহজে একই দিনে দুটি ম্যাচ আয়োজন করা যায়। ফলে আপাতত একসঙ্গে দুটি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়।

তারপরও ভারতে নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা নিয়ে আশাবাদী ডবসন। উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লিউপিএল) মাধ্যমে ভারতীয় দর্শকের কাছে নারী ক্রিকেটারদের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে। ডবসনের মতে, ভারতের দর্শকেরা অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটারদেরও পছন্দ করেন এবং তাঁদের সামর্থ্য সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখেন।

এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘ডব্লিউপিএলের মাধ্যমে আমরা জানি, ভারতে আমাদের নারী ক্রিকেটাররা কতটা জনপ্রিয় এবং তাঁরা কতটা ভালো খেলেন। তাই ভবিষ্যতে এমন কিছু হবে না, তা আমি কখনোই বলব না।’

একটি ম্যাচ, নাকি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার শুরু?

বিগ ব্যাশের উদ্বোধনী ম্যাচ চেন্নাইয়ে আয়োজন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জন্য একাধিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে লিগটির পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় দর্শকদের সঙ্গে আরও সরাসরি যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে নারী ক্রিকেটসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক আয়োজনের পথও খুলতে পারে।

তবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে শুধু ১২ ডিসেম্বরের ম্যাচে কত দর্শক মাঠে এলেন, তার ওপর নয়। ম্যাচটি নির্বিঘ্নে আয়োজন করা, আন্তর্জাতিক সম্প্রচারে দর্শক টানা, ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী বছরগুলোতে এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বাজারে আইপিএলের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা বিশাল। সেই বাস্তবতায় বিগ ব্যাশের লক্ষ্য আইপিএলের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামার ঘোষণা দেওয়া নয়; বরং নিজেদের প্রতিযোগিতাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে আরও পরিচিত ও আকর্ষণীয় করে তোলা। চেন্নাইয়ে উদ্বোধনী ম্যাচ সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি পরীক্ষা।

টিকিট বিক্রিতে প্রাথমিক সাড়া, ভারতীয় দর্শকদের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ এবং চিপক স্টেডিয়ামের পরিচিতি—সবই আয়োজকদের আশাবাদী হওয়ার কারণ। এখন দেখার বিষয়, এই আগ্রহকে কতটা বড় দর্শকসমাগমে রূপ দেওয়া যায় এবং বৃষ্টির শঙ্কা সামলে মাঠে একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হয় কি না।

সফল হলে চেন্নাইয়ের এই ম্যাচ বিগ ব্যাশের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে নতুন অধ্যায় খুলে দিতে পারে। আর সেই সাফল্যের ওপর নির্ভর করেই হয়তো ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার বাইরের আরও শহরে বিগ ব্যাশ কিংবা ডব্লিউবিবিএলের ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পাবে।